• শিরোনাম

    পরীমণির মুক্তির

    পরীমণির মুক্তির দাবিতে উত্তাল জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৪ আগস্ট ২০২১

    পরীমণির মুক্তির দাবিতে উত্তাল জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা

    ঢাকা: ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমণির মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা উত্তাল। সেখানে এসে বিভিন্ন পেশার মানুষ তার মুক্তি দাবি করছেন।

    শনিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে বিক্ষুব্ধ নাগরিকজন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

    সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, ‘সামান্য মাদক মামলায় একজন মানুষকে জামিন না দিয়ে দুইবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, যা অযৌক্তিক। আমরা অতীতে দেখেছি, মাদক মামলায় অনেকে জামিনে বেরিয়েছে, তাহলে তাকে কেন বারবার জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। তিনি একজন শিল্পী, তার হেনস্তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সরকারবিরোধী কোনো কথা বলছি না। আমরা সরকারকে অনুরোধ করি, আমাদের পরিমণিকে ফিরিয়ে দিন। আমরা তাকে আবারও শুটিং সেটে দেখতে চাই।’

    সমাবেশে লেখক ও মানবাধিকারকর্মী শ্বাসতী বিপ্লব বলেন, ‘যাকে যখন ভালো লাগবে না, তাকে তখন নষ্ট মেয়ের তকমা লাগিয়ে দিবেন। এটা হতে পারে না। নষ্ট মেয়ের তাকমা লাগানো খুবই সহজ। প্রতিটি প্রতিবাদী নারীকে নষ্টা মেয়ে তাকমা লাগাতে পারেন। কারা এই মেয়েদের নষ্ট করেছে? নষ্ট মেয়ে ঠিক করা তো আপনাদের কাজ না। মোল্লাদের মতো আপনারা নারীদের চরিত্র হননে ব্যস্ত হয়ে গেছেন। এই কাজের জন্য আপনাদের ধিক্কার জানাই।’

    বিক্ষুব্ধ নাগরিকজনের আহ্বায়ক ও শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকার রবিন আহসান বলেন, ‘গণমাধ্যম টানার দীর্ঘসময় পরীমণিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। পুলিশ যেভাবে উপস্থাপন করেছে, সংবাদমাধ্যম সেভাবেই কাজ করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এই প্রথম এভাবে নারী নিপীড়নের সংবাদ প্রচার হয়েছে। আমরা শুধু এখানে পরিমণির জন্য দাঁড়ায়নি, আমরা দাঁড়িয়েছি বাংলাদেশের সকল নারী সমাজের জন্য। বাংলাদেশের নারীদের পাথর ছুড়ে মারার মতো একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছে। সেখানে গণমাধ্যম ও পুলিশ একসাথে কাজ করছে।’

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে এই প্রকাশক বলেন, ‘আপনারা কেন প্রশ্ন করেন না, একটা বোট ক্লাব কেন পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চালাবে? বোট ক্লাবের পরে এই ঘটনায় তাকে আট দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সব জায়গায় মদের বোতল পাওয়া যায়। হাজার বোতল মদের কোনো খবর নেই, পাঁচ বোতল মদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার পরে বলতে চেয়েছেন, পরীমণি কত বড় খারাপ।’
    তিনি আরও বলেন, ‘পরীমণিকে অতি দ্রুত মুক্তি না দিলে সমগ্র সাংস্কৃতিক সমাজকে নিয়ে বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেউ আমাদের সঙ্গে না থাকলেও সামাজিক গণমাধ্যম আমাদের হাতে আছে। শুধু পরীমণি নয়, আমরা সকল নারী সমাজের পাশে দাঁড়াবো।’

    উল্লেখ্য, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমণি বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

    সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়নকর্মী মুশফিকা লাইজু, নির্মাতা রাশিদ পলাশ, নির্মাতা সংগীতা ঘোষ, প্রকাশক দেলোওয়ার হোসেন, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা আকরামুল হক, মুক্তিযুদ্ধা আবুল হোসাইন প্রমুখ।

    এছাড়া লন্ডন থেকে সংহতি জানিয়ে যুক্ত ছিলেন সাংবাদিক ও লেখক আব্দুল গফফার চৌধুরী, শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর সভাপতি হেলাল মিয়া।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত