• শিরোনাম

    টিকার

    টিকার জোগান নিয়ে শঙ্কা

    নিউজজি ডেস্ক | শুক্রবার, ২০ আগস্ট ২০২১

    টিকার জোগান নিয়ে শঙ্কা

    দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ বাড়ায় মজুদ কমছে। ফলে টিকার জোগান নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। নানা কারণে একটা সময় করোনা ভাইরাসের টিকার ব্যাপারে আগ্রহ না দেখালেও নিজের সুরক্ষার জন্য টিকায় আগ্রহী হচ্ছে মানুষ। তা ছাড়া বিদেশ গমনসহ নানা কারনে টিকা গ্রহণের আবশ্যিক হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন ছুটছে টিকাকেন্দ্রে।

    দেশে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭১২ জন। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৬১ লাখ ২৯ হাজার ৫৪০ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে টিকা দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ২৫২ ডোজ। যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন তাদের প্রত্যেককে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হলে আরও টিকা প্রয়োজন ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৭২ ডোজ। প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের দ্বিতীয় ডোজ টিকা সংরক্ষণের পর সরকারের হাতে টিকা থাকবে মাত্র ১২ লাখ ৮১ হাজার ৩৭৬ ডোজ, যা প্রতিজনকে দুই ডোজ হিসাবে ৬ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে দেওয়া সম্ভব। সুতরাং কোনো কারণে টিকার জোগান বন্ধ হলে বড় ধরনের সংকটে পড়বে টিকাদান কর্মসূচি। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা টিকার বহুমুখী জোগানের ওপর জোর দিচ্ছেন।
    টিকার জোগানের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, টিকা দেওয়া নিয়ে সরকারের লক্ষ্য আগে ঠিক করতে হবে। হার্ড ইউমিনিটি তৈরি করতে হলে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এজন্য বিপুল পরিমাণ টিকা দরকার। সরকার কত মাসে তাদের টিকা আওতায় আনতে চায়, সেই অনুযায়ী টিকার জোগান নিশ্চিতে মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। অন্যথায় টিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়বে। এর সঙ্গে বুস্টার ডোজ যোগ হলে তাদেরও টিকার জোগান কী হবে তার এখনই ঠিক করতে হবে।
    নিবন্ধনের কিছু শর্ত শিথিল এবং সরকার গণটিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলেও মানুষ যেভাবে টিকাকেন্দ্রে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তাতে টিকার সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় নিবন্ধনকারীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় অনেককেই ফিরতে হচ্ছে টিকা না নিয়ে। তা ছাড়া সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করা অনেকেরই এখন এসএমএসের অপেক্ষায় দিন কাটছে। কেউ ৩০ দিন ধরে অপেক্ষা করছেন, কেউবা তারও বেশি। এরপরও মোবাইল নম্বরে পাচ্ছেন না সেই কাক্সিক্ষত এসএমএস। হতাশ হয়ে তাই অনেকে ছুটে যাচ্ছেন টিকাকেন্দ্রে, কিন্তু এসএমএস না থাকায় ঢুকতে পারছেন না। বিপুল এই চাহিদার বিপরীতে জোগান নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।

    দেশে মর্ডানার দ্বিতীয় ডোজ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ, ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ আর সিনোফার্মের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ মানুষ টিকা পাচ্ছেন। টিকা নেওয়ার জন্য ১৮ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৩ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৭১০ জন মানুষ। এদের প্রত্যেককে দুই ডোজ করে টিকা দিতে হলে টিকার প্রয়োজন ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪২০ ডোজ। সরকার এখন পর্যন্ত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ কোটি ১৮ লাখ ২৬ হাজার ২০০ ডোজ, চীনের সিনোফার্মের ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ, মর্ডানার ৫৫ লাখ ডোজ ও ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজসহ মোট ৩ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮২০ ডোজ টিকা পেয়েছে। নিবন্ধনকারী সবাইকে টিকা দিতে প্রয়োজন আরও ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬০০ ডোজ, যা সরকারের কাছে নেই।

    দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সেই হিসাবে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে ১৩ কোটি ৬০ মানুষকে টিকা দিতে হবে। যদি সিঙ্গেল ডোজের জনসন ছাড়া অন্য টিকা প্রয়োগ করা হয় তাহলে টিকার প্রয়োজন হবে ২৭ কোটি ২০ লাখ ডোজ। এই বিপুল প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে জোগানের উৎস
    বর্তমানে দুটি। সবার জন্য টিকা নিশ্চিতের বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স হয়ে উঠেছে ভরসাস্থল। কোভ্যাক্স থেকে বাংলাদেশের ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার কথা।

    এর মধ্যে ১ কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট টিকা ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোন টিকা, কত পরিমাণ, কবে দেবে তা আগে জানায় না কোভ্যাক্স। অন্যদিকে চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে ছয় কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। আগেই দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি রয়েছে চীনা কোম্পানিটির সঙ্গে। আগে চুক্তির অনুযায়ী এরই মধ্যে টিকা পাঠানোও শুরু করেছে সিনোফার্ম। এ ছাড়া সিনোফার্মের সঙ্গে সহ-উৎপাদন চুক্তি হয়েছে দেশীয় কোম্পানি ইনসেপ্টার সঙ্গে। আগামী তিন মাসের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারবে বলে ইনসেপ্টার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টিকার অন্য আরেকটি উৎস রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ঝুলে গেছে। ঠিক কবে নাগাদ চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে বাংলাদেশ টিকা পাবে সেটি নিশ্চিত নয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত