• শিরোনাম

    ২০ জেলায় বন্যা, ২৬ জনের মৃত্যু

    | মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট ২০১৭

    ২০ জেলায় বন্যা, ২৬ জনের মৃত্যু

    দিনাজপুর শহরের চৌরঙ্গী সিনেমা হলের পাশে বড়গুড়গোলা সড়কের ওপর কোমরপানি। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তল্পিতল্পা নিয়ে ছুটছে বন্যার্ত মানুষ। ছবিটি গতকাল বিকেলে তোলা l সোয়েল রানা

    দেশের ২০ জেলায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত দুই দিনে বন্যায় শিশুসহ ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। পাঁচ জেলায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উত্তরের পাঁচ জায়গায় ট্রেন চলছে না। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পানি ঢুকে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের ২৩টি স্থানে বাঁধ ভেঙে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ১৮টি জায়গায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

    আগামী তিন দিন দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় বন্যার পানিতে ডুবতে পারে রাজধানীর নিম্নাঞ্চল। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সোমবার এই পূর্বাভাস দিয়েছে। তারা বলছে, সাধারণত ব্রহ্মপুত্র-গঙ্গা ও যমুনা অববাহিকার পানি একযোগে বাড়লে বড় বন্যা হয়। এ বছর ওই তিন অববাহিকা ছাড়াও তিস্তা নদীর পানিও বাড়ছে।

    সরকারি হিসাবেও গতকাল পর্যন্ত বন্যায় ২০ জন মারা গেছে বলে উল্লেখ করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতি ’৮৮-এর চেয়ে মারাত্মক হলেও তা মোকাবিলা করার সামর্থ্য সরকারের আছে।

    এদিকে ভারতের আবহাওয়াবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা আইএমডির চলতি সপ্তাহের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশটির পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল, সিকিম রাজ্যে টানা ভারী বৃষ্টি হবে। ইতিমধ্যে ওই রাজ্যগুলোর বিস্তৃত এলাকা তলিয়ে গেছে। রাজ্যগুলো দিয়ে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতের ওই সব রাজ্যে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে তা বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে বাংলাদেশের বন্যা ও নদী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

    ২৩ স্থানে বাঁধ ভেঙেছে

    দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় নয়টি বাঁধ ভেঙে গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ি, রাজারহাটের কালুয়া ও ফুলবাড়ীর গোড়কমণ্ডল এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের রাজবল্লভ এলাকায় তিস্তা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৬০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। ফলে স্থানীয় আলমের বাজারের ৫০০ দোকানের মধ্যে ৪০০ দোকান ভেসে গেছে।

    নওগাঁর মান্দা উপজেলায় গতকাল আত্রাই নদের আটটি স্থানে বাঁধ ভেঙে আটটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নওগাঁ শহর রক্ষা বাঁধ উপচে এবং পৌরসভার অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গাইবান্ধায় পানির চাপে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অসংখ্য স্থান ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুর বস্তা ফেলে এসব স্থানে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বাঁধ থেকে সরে যেতে গতকাল মাইকিং করে জেলা প্রশাসন। বাঁধ সুরক্ষায় সহযোগিতা করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চন্দনবাইশা এলাকার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝু
    ঁকিতে রয়েছে। বাঁধ রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    পাঁচ জেলায় সড়ক যোগাযোগ ও পাঁচটি রেলপথ বন্ধ

    গাইবান্ধায় স্রোতে সুন্দরগঞ্জ-পঞ্চনন্দ সড়কের পঞ্চনন্দ এলাকায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাঁধের রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় গতকাল সকাল থেকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সঙ্গে মান্দার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জয়পুরহাটে জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা ও কোমর গ্রাম সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি বইছে।

    সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের অন্তত সাতটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ শহরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের দুটি স্থানে গতকালও পানি ছিল। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

    দিনাজপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোখলেসার রহমান বলেন, দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় দিনাজপুরের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ। লালমনিরহাট রেল বিভাগীয় সূত্র জানায়, বন্যার পানিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটের ভোটমারী থেকে বুড়িমারী, কুড়িগ্রামের রমনা বাজার থেকে কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়, লালমনিরহাট রেলস্টেশন থেকে তিস্তা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    সৈয়দপুর বিমানবন্দরের দক্ষিণ অংশে দেয়াল ভেঙে গতকাল বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। তবে রানওয়েতে এখনো পানি না ওঠায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুরে আড়াই হাজার এবং দিনাজপুরে কয়েক হাজারপরিবার পানিবন্দী। জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার দেড় শতাধিক বাড়ি টাঙ্গন নদের পানিতে ডুবে আছে।

    কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী

    সারা দেশে কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী। তবে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেছেন, এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৯। এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর ২৭টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। গতকাল পর্যন্ত ২০টি জেলার ৫৬টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে এবং ৫৬২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৫০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

    কুড়িগ্রামে সরকারি হিসাবেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী। সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর, চৌহালী, কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৮০ শতাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, যমুনা নদীর তীরবর্তী বাঁধের ভেতরের সহস্রাধিক বাড়িঘর চার-পাঁচ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

    দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক গ্রামের মানুষ। নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও পূর্বধলা উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটিই প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

    রংপুরের ছয় উপজেলার ৩০ ইউনিয়নের দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী। লালমনিরহাটে ১ লাখ ২ হাজার ৭৫০টি পরিবার বন্যাকবলিত। নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পঞ্চগড়ে পাঁচ উপজেলায় সরকারি হিসাবেই ৪৫ হাজার ৩০৫টি পরিবার বন্যাকবলিত। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী।

    ২৫ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি

    জয়পুরহাট কৃষি বিভাগ বলছে, জেলার প্রায় ২ হাজার ২২৫ হেক্টর জমির ধান ও ফসল ডুবে গেছে। তবে জেলার কৃষকদের দাবি, কেবল বিল হাওয়াই মাঠেই প্রায় চার-পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ধান এখন পানির নিচে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল জলিল মিয়া বলেন, জয়পুরহাটের ৪৯৮টি পুকুরের ৫০ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে।

    রংপুরে পানিতে ডুবে গেছে রোপণকৃত আমন খেতসহ বিভিন্ন রবি ফসল। পঞ্চগড়ে ৩ হাজার ৩৭৫ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নওগাঁয় তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার একর জমির ধান। ভেসে গেছে বহু পুকুরের মাছ। লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ হাজার ২০০ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১৫ হাজার হেক্টর জমির সদ্য রোপা আমন খেত ডুবে গেছে। ভেসে গেছে প্রায় তিন হাজার পুকুরের মাছ। শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমির রোপা আমন ধান, আমন বীজতলা ও সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

    সুনামগঞ্জে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও ৭৯৫ হেক্টর জমির বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আরও ১৩ জনের প্রাণহানি

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে গতকাল দুপুরে ডুবে মারা গেছেন জেলে জাকারিয়া আলী (৪৫)। তিনি উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সাতপাই গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলার খড়খড়িয়া নদীর পশ্চিম পাটোয়ারীপাড়া এলাকায় সিরাজুল ইসলাম (১৮) ও আরিফ (১৪) সাঁতার কাটতে নামে। প্রবল¯স্রোতে তারা নিখোঁজ হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। সিরাজুল শহরের হাতিখানা লায়ন্স স্কুল এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে। আরিফের বাড়ি শহরের কাজীপাড়ায়।

    দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম বলেছেন, সদর উপজেলায় পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে গতকাল সকালে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। এ নিয়ে তিন দিনে এ জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু হলো।

    লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, গত রোববার দুপুরে সদর উপজেলার পূর্ব বড়ুয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে নাজিম (৩), স্ত্রী নাজমা বেগম (২২), দুলাভাই মোজাম্মেল হক (৪৫) ও মোজাম্মেলের ছেলে আলী হোসেন (৭) আশ্রয়ের খোঁজে বের হয়ে বন্যার পানিতে তলিয়ে যান। এক ঘণ্টা পর নাজিমের লাশ ভেসে ওঠে। বাকি তিনজনের লাশ পাওয়া যায় গতকাল।

    কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বলেছে, বন্যায় জেলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে তারা। তবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার আজবপুর গ্রামে গতকাল দুপুরে বন্যার পানিতে পড়ে মিতুল মিয়া (৪) ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কলাইয়া গ্রামে সাহান মিয়া (৪) নামের দুই শিশু মারা গেছে।

    নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

    সিরাজগঞ্জে গতকাল সন্ধ্যায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ মিটার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘আমরা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে রয়েছি। যমুনা নদীতে পানির উচ্চতা শত বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৪৬ সেন্টিমিটার।’

    কুড়িগ্রামে গতকাল সকালে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৬৮ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া ইউনিয়নে দুধকুমার নদের পানি ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

    জামালপুর পাউবোর পানি পরিমাপের নিয়ন্ত্রক আবদুল মান্নান বলেন, গতকাল পানি বেড়ে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নওগাঁয় গতকাল দুপুরে আত্রাই নদের পানি ধামইরহাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার, মান্দা পয়েন্টে ১০৬ সেন্টিমিটার, আত্রাই পয়েন্টে ৫৬ সেন্টিমিটার ও মহাদেবপুর পয়েন্টে ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

    তবে পঞ্চগড়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। লালমনিরহাটে গতকাল সকালে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

    ত্রাণ তৎপরতা

    জামালপুরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার জন্য গতকাল ৩১ মেট্রিক টন চাল ও ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ফরিদুল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১০০ টন চাল দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জেলায় পানিবন্দী মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

    পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসন ত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে আবেদন করেছে। তবে এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরকারি-বেসরকারিভাবে শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

    গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ৯৩ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ লাখ টাকা, জলঢাকা উপজেলায় ৪৪ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ টাকা, সদর উপজেলায় ৩০ মেট্রিক টন চাল, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নয় মেট্রিক টন চাল এবং ডোমারে ৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    উত্তরাঞ্চলে আরও সেনাসদস্য

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে গাইবান্ধা সদরে ভেঙে যাওয়া একটি বাঁধ মেরামতে সেনাবাহিনীর তিন প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ পদাতিক ডিভিশনের একটি বিশেষ দল সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত