• শিরোনাম

    হৃদয়হীনা সুন্দরী, কিশোরের অবুঝ প্রেম আর কুমিরের হামলা!

    অনলাইন ডেস্ক | মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০১৭

    হৃদয়হীনা সুন্দরী, কিশোরের অবুঝ প্রেম আর কুমিরের হামলা!

    বয়সে বড় বৃটিশ প্রেয়সীকে মুগ্ধ করতে কুমিরভরা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলীয় টিনএজার লি ডি পাউভ। ১৮ বছর বয়সী এই কিশোর ২৪ বছরবয়সী প্রিয়দর্শীনি মিস সোফি প্যাটারসনের প্রেমে মজে কুমিরের কামড়ে হাতের দুটি হাড় ভেঙে হাসপাতালে পৌঁছায় শেষতক।

    কুমির তাকে প্রায় খেয়েই ফেলেছিল।

    গত রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে অস্ট্রেলিয়ার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের ইন্নিসফেইল এলাকার জনস্টন নদীতে। কুমির তাকে টেনে ছয় মিটার দূরে নিয়ে যায়। সেখানে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং কুমির যেমন তাকে গিলে খাওয়ার জন্য কামড় বসায় তেমনি সেও কুমিরের নাকে প্রচণ্ড ঘুসি হাঁকায়। পরে হাড়ভাঙা হাতসহ সে সাঁতরে পাড়ে উঠে।

    ওই সময়টায় তার মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া সুন্দরী সোফি পাড়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

    চ্যানেল নাইন নামের টিভি চ্যানেলকে লি জানায়, মেয়েটি আসলে তেমন বিশেষ কিছু না, অন্য মেয়েদের মতোই। তবে সে দেখতে খুব সুন্দরী।

    কিশোর লি আরও জানায়, আগের রাতে মিস প্যাটারসনের সঙ্গে তার মোলাকাত ছিল প্রেমময় এবং তখন তাকে খুবই সুন্দরী লাগছিল।

    তার সঙ্গে ডেট করার আশা ছিল লির। এমন কথাও হয়তো হয়েছিল দুজনের।

    কিন্তু ওদিকে অপর টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোফি যা বলেন তা লির বুক দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি জানান, লি তার মন জয় করতে পারেনি।

    তিনি বলেন, ইন্নিসফেইলে বেড়াতে এসে পর্যটকদের হোস্টেলে ছিলাম। সেখানে এক বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছিলাম রাতে। এসময় লি ডি সেখানে তার পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা করতে আসে। আমরা সুরাপান করছিলাম, একটা চমৎকার রাত যাচ্ছিল। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা শান্ত পরিবেশ। কোনো উত্তেজনাকর কিছু ছিল না। এসময় হঠাৎ সে কুমিরভরা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

    লিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয় তার হাতে। তবে প্রাণে বেঁচে যায় সে। জানা গেল- তার প্রেম ছিল একতরফা। কারণ চ্যানেল সেভেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে যাওয়া বৃটিশ সুন্দরী জানান, লি তার মন জিততে পারেনি।

    লি’র দুঃসাহসী, অপরিণামদর্শী আত্মঘাতী কাণ্ডের মূল্যায়ন মিস প্যাটারসন করেন এভাবে- নিজের জীবনকে এভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা কোনো মজাদার বিষয় হতে পারে না। সত্যি করে বলতে গেলে এটা ছিল খুবই ভীতিকর এক অভিজ্ঞতা। জীবনে আমি কোনো মানুষকে এত জোরে আর্তচিৎকার করতে দেখিনি।

    বোঝা যায়, সোফি অনেক বিষয় এড়িয়ে গেছেন এবং লুকোছাপা করেছেন।

    তবে তিনি জানান, সুযোগ হলে লিকে দেখতে যাওয়া যেতে পারে। অবশ্য তার সঙ্গে ডেট করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, আমার তুলনায় লি বয়সে খুবই ছোট।

    প্রসঙ্গত, লোনা পানি আর মিঠা পানির কুমির- দুটোর জন্যই বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়া। সল্টিজ হিসেবে পরিচিত লোনা পানির ভয়াবহ হিংস্র কুমিরের একটি প্রজাতি লম্বায় ৭ মিটার (১৫ হাত প্রায়) পর্যন্ত হয়।

    একইদিন ইন্নিসফেইলে কুমিরের হামলায় অপর এক ব্যক্তি নিহত হন।

    অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে লবণাক্ত পানির কুমিরের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ১৯৭১ সালে কুমির রক্ষা আইন প্রবর্তনের পর থেকে এই সংখ্যা এখন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর কুমিরের হামলায় গড়ে দুজন নিহত হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত