• শিরোনাম

    শোকাবহ আগস্ট শুরু

    | বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০১৯

    শোকাবহ আগস্ট শুরু

    সদ্য স্বাধীন দেশ। নানা সমস্যা ও চক্রান্ত মোকাবিলা করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ঠিক তখনই পরাজিত শত্রুদের দোসররা হানে চূড়ান্ত আঘাত। হত্যা করা হয় যিনি দেশটি স্বাধীন করেছিলেন- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বাংলাদেশের ‘পাকিস্তানে ফেরা’ নিশ্চিত করতে তারা নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকারও। ফলে ঘাতকদের
    বুলেট থেকে রেহাই পায়নি মায়ের কাছে যেতে চেয়ে ক্রন্দনরত ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলও। হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর স্বজনদেরও। তবে বিদেশ ভ্রমণে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে ঘটেছিল এ নারকীয় তা-ব। বছর ঘুরে আবারও এসেছে শোকাবহ আগস্ট মাস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম ঘটনাবহুল এ মাসকে আওয়ামী লীগসহ পুরো জাতি পালন করে শোকের মাস হিসেবে। ১ আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, শোক ও ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করে।

    ১৫ আগস্টের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকা-ে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির জনকের বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাগনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির জনকের ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, ছোট ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হন।

    ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ঘাতকচক্র, এ হত্যার বিচার বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইনও জারি করেছিল তখন ক্ষমতা দখলকারী তাদের সমর্থকরা। এর পর দীর্ঘ ২১ বছর জাতি বিচারহীনতার কলঙ্কের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালে জাতির পিতার বড় মেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এ হত্যাকা- বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে কয়েক ঘাতকের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেন শেখ হাসিনা। তবে আরও কয়েক ঘাতক এখনও বিদেশে পলাতক। তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

    মাসব্যাপী কর্মসূচি

    ১ আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন কর্মসূচি রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। শোকের মাসের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ বুধবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। মিছিলটি ধানম-ি ৩২ নম্বর সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। আজ বৃহস্পতিবার কৃষকলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    ৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের শোক দিবসের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। ৪ আগস্ট বিকাল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ৬ আগস্ট জাতীয় শ্রমিকলীগ, ১০ আগস্ট যুবলীগের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১৫ আগস্টের কর্মসূচিতে আছে- সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানম-ি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মিলাদ মাহফিল। বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। দুপুরে অসচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণ। বাদ আসর মহিলা লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ মাহফিল।

    ১৬ আগস্ট বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনাসভা হবে। ২১ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষিবিদ পরিষদ, ২২ আগস্ট মহিলা লীগ, ২৩ আগস্ট তাঁতী লীগ, ২৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কৃষি পরিষদ, ২৭ আগস্ট যুব মহিলা লীগ, ২৮ আগস্ট কৃষক লীগ এবং ২৯ আগস্ট মহিলা শ্রমিক লীগ, ৩০ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং ৩১ আগস্ট ছাত্রলীগের আলোচনাসভা রয়েছে।

    এ ছাড়া ৫ আগস্ট শেখ কামালের এবং ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জš§দিন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা স্মরণে কর্মসূচিও রয়েছে।

    বিষয় :

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত