• শিরোনাম

    মৌলবাদীদের নিশানায় কলকাতার বেকার হোস্টেলের বঙ্গবন্ধুর মূর্তি

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক: | রবিবার, ১৯ মার্চ ২০১৭

    মৌলবাদীদের নিশানায় কলকাতার বেকার হোস্টেলের বঙ্গবন্ধুর মূর্তি

    মৌলবাদের নিশানায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। কলকাতার ৮ নম্বর স্মিথ লেনে অবস্থিত বেকার হোষ্টেল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তি সরানোর দাবি তুলল সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন। সংগঠনের দাবি বেকার হোষ্টেল মুসলিমদের জাতীয় সম্পত্তি। সেখানে শেখ হাসিনা তার পিতার মূর্তি বসাবেন তা মেনে নেওয়া যায় না।
    রবিবার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ কামরুজ্জামান জানান ‘বেকার হোস্টেল একটা মুসলিম ছাত্রবাস। এর মধ্যে মসজিদ আছে এবং প্রচুর মুসলিম মনীষীরা এখানে থেকে পড়াশোনা করেছেন। ইসলাম ধর্মে মূর্তি সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। সেই রকম একটা ছাত্রাবাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর একটা মূর্তি বসিয়ে রাখা হবে-এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই বেকার হোস্টেলের ভিতর থেকে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রহশালাটি রেখে তার মূর্তি ও ছবিগুলি সরিয়ে নেওযার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি আগামী এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ভারত সফরের আগেই তিনি এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন’।
    শেখ হাসিনার প্রতি বার্তা দিয়ে কামরুজ্জামান বলেন ‘আমরা আশা করবো এই বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনা আমাদের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই, ভারতীয় মুসলিমদের আত্মসম্মান, মর্যাদা বজায় রেখেই তিনি তার পিতার মূর্তিটি বেকার হোস্টেল থেকে সরিয়ে নেবেন’। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
    এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য আগামীকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছেও স্মারকলিপি পাঠাতো চলেছে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা দফতরকেও বিষয়টি জাননো হবে। রাজ্যের মুসলিম ভাবাবেগ বুঝে রাজ্য সরকারও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আর্জি জানানো হবে।
    তার যুক্তি বঙ্গবন্ধুর মূর্তি যদি বসাতেই হয় সেক্ষেত্রে কলকাতা পৗরসভার সহায়তা নিয়ে কলকাতার যে কোন বড় রাস্তায় বা পার্কে বসানো যেতে পারে কিন্তু কোন মুসলিম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বঙ্গবন্ধুসহ কারও মূর্তি বসানোর পক্ষপাতী নই। আমরা এটাকে সমর্থনও করি না। সংস্কৃতির পীঠস্থান কলকাতায় এই দাবি ওঠায় রীতিমত অস্বস্তি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
    উল্লেখ্য ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেকার হোস্টেল। এটি একটি সরকারি ছাত্রবাস। ১৯৪৫-৪৬ শিক্ষাবর্ষে কলকাতার তৎকালীন ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র ছিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বেকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বাড়িটির তৃতীয় তলায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত ২৪ নম্বর কক্ষটি। তৃতীয় তলায় উঠলেই বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কারাজীবনের কথা পাথরে খোদাই করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে সাদা মার্বেল ফলকে। ১৯৯৮ সালে এই ২৪ নম্বর কক্ষটিকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষার্থে সংরক্ষণ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কক্ষটির সঙ্গে ২৩ নম্বর কক্ষটিও জুড়ে দেওয়া হয়। বেকার হোস্টেলের এই স্মৃতিবাহী কক্ষের সামনেই সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে স্থাপিত করা হয় বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ মূর্তি। ২০১১ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি এই মূর্তির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন। এবার সেই মূর্তি সরানোর দাবি উঠেছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত